ইব্রাহিম রাইসি সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য।

 ইব্রাহিম রাইসি ১৪ ডিসেম্বর ১৯৬০ সালে ইরানের মাশহাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসি সাদাতি।

ইব্রাহিম রাইসি সাদাতি


তিনি শিয়া মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পিতা একজন ধর্মীয় পণ্ডিত ছিলেন।


 শিক্ষা ও প্রাথমিক জীবন

রাইসি ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং তিনি কুম ও মাশহাদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করেছেন। তিনি ইসলামী ফিকহ ও আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরে ইসলামি আইন ও বিচার ব্যবস্থায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত হন।

পেশাগত জীবন

রাইসি তার পেশাগত জীবন শুরু করেন ১৯৮০-এর দশকে ইরানের বিচার বিভাগে কাজ করে। তিনি বিভিন্ন উচ্চপদস্থ দায়িত্ব পালন করেন, যেমন:


- **ডেপুটি প্রসিকিউটর**: তেহরানে ডেপুটি প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ করেন।

- **প্রধান বিচারপতি**: ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান ছিলেন।

- **বিশেষ প্রসিকিউটর**: ইমাম রেজার মাজারের সংলগ্ন ফাউন্ডেশনের বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


-- রাজনৈতিক জীবন

রাইসি কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের মূল নীতির সমর্থক। তিনি ২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তার প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান করা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলোর মোকাবিলা করা এবং ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষা করা।


--বিতর্ক ও সমালোচনা

রাইসির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ করে ১৯৮৮ সালের রাজনৈতিক বন্দিদের ফাঁসির ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে।


--ব্যক্তিগত জীবন

রাইসি বিবাহিত এবং তার স্ত্রী জামানে সাদাত লরির প্রধান এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।


ইব্রাহিম রাইসির জীবনী থেকে বোঝা যায় যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিচারিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার সাথে জড়িত এবং কট্টরপন্থী নীতির সমর্থক। তার নেতৃত্বে ইরান নতুন চ্যালেঞ্জ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

0 Comments:

Post a Comment